দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকট ও নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করায় এক সাংবাদিককে ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভণ্ড’ ও ‘ছোটলোক’ বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ।
সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুল হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসব মন্তব্য করেন। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিক আসাদুলের পোস্টে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা, ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসক সংকট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের উন্নয়ন ও সেবার মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
তার অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নজর দেওয়ার পরিবর্তে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন সভা, অনুষ্ঠান ও মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এ ছাড়া ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতেও সময় ব্যয় করার অভিযোগ করেন ওই সাংবাদিক।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের পড়াশোনা ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আসাদুল ইসলাম বাবুলকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন অশালীন ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, গত ১০ মাস ধরে একটি পক্ষ তার পেছনে লেগে আছে। চরের মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, চরাঞ্চলের মানুষ নিজেদের মেধা, পরিশ্রম ও যোগ্যতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই সাংবাদিক ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে চরের মানুষকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করার অভিযোগও করেন তিনি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভূঞাপুর প্রেসক্লাবও এর নিন্দা জানিয়েছে।
সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় পোস্ট করেছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ সরকারি চাকরির আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং সংবাদ প্রকাশ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কোনো সাংবাদিকের তথ্য বা বক্তব্য নিয়ে কর্তৃপক্ষের আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার জবাব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সাংবাদিককে গালিগালাজ করা এবং সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।
এদিকে বাংলাদেশের সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির জনগণের সেবা করার দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধিতেও নাগরিকদের সঙ্গে শিষ্টাচারপূর্ণ ও মার্জিত আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই